1. info@binodon-times.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. binodontimes25@gmail.com : Mrj Shanto : Mrj Shanto
  3. news@binodon-times.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের মঞ্চে হুমায়রার দীপ্তিময় পদচারণা

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৩ বার

বিনোদন প্রতিবেদক: গ্ল্যামার, গ্রেস, আত্মবিশ্বাস আর দেশপ্রেম — এই চার শব্দেই যেন ধরা যায় হুমায়রার আন্তর্জাতিক যাত্রার গল্প। মিস গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৫ হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছেন বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস গ্লোবাল ২০২৫’-এ। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই জমকালো আয়োজনে তিনি শুধু একজন প্রতিযোগী হিসেবেই নন, বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন বিশ্বদরবারে।

আন্তর্জাতিক কোনো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন হুমায়রা বুকে লালন করেছেন বহুদিন। সেই স্বপ্নের পথ খুলে দেয় মিস বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন, যারা ‘মিস গ্লোবাল’-এর জন্য প্রতিভা বাছাইয়ের আয়োজন করে। কঠোর প্রতিযোগিতা, মেধা যাচাই এবং দিনব্যাপী নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে হুমায়রা নির্বাচিত হন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে। তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। হাতে সময় ছিল খুবই সীমিত, স্পন্সর জোগাড় করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, আর অল্প সময়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও ছিল প্রায় অসম্ভবের মতো। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। পরিবারের অকুণ্ঠ মানসিক ও আর্থিক সমর্থনকে শক্তি করে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তিনি পা রাখেন এই বিশ্বমঞ্চে।
তবে হুমায়রার এই যাত্রার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দিক ছিল তার ফ্যাশন ও উপস্থাপনায় দেশীয় ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন। একজন শিল্পীসত্তার অধিকারী হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন, তার প্রতিটি উপস্থিতিতে যেন ফুটে ওঠে বাংলাদেশের আত্মা। আর তাই প্রতিযোগিতার জন্য তার ইভিনিং গাউন এবং ন্যাশনাল কস্টিউম— দুটিই তিনি নিজ হাতে ডিজাইন করেন। বিশেষ করে তার ন্যাশনাল কস্টিউম ছিল পুরো আয়োজনের অন্যতম আলোচিত উপস্থাপনা। বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক জামদানি শাড়ি এবং জাতীয় ফুল শাপলার নান্দনিক সংমিশ্রণে তৈরি এই পোশাক যেন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিচারকমণ্ডলী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অতিথিরাও এই কস্টিউমের প্রশংসায় মুগ্ধ হন। গ্লোবাল স্টেজে তার এই সৃজনশীল উপস্থাপনা প্রমাণ করেছে, স্টাইল তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সঙ্গে থাকে শিকড়ের সংযোগ।
কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের ঝলমলে দিনগুলো হুমায়রার জন্য ছিল অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং আত্মবিশ্বাসে ভরা এক নতুন অধ্যায়। বিশ্বের ৭২টি দেশের বিউটি কুইনদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানো, তাদের সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়া, এবং একইসঙ্গে নিজের দেশকে তুলে ধরা — সব মিলিয়ে এটি ছিল তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। শুরুতে হাজারো দর্শকের সামনে বিশাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও, খুব দ্রুতই সেই অনুভূতি জায়গা করে দেয় দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও মঞ্চসুলভ ব্যক্তিত্বকে। প্রতিটি রাউন্ড, প্রতিটি উপস্থিতি আর প্রতিটি মুহূর্তে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের মেয়েরাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমান উজ্জ্বল, সমান সক্ষম।


তবে হুমায়রার সৌন্দর্যের গল্প কেবল আলো, ক্যামেরা আর গ্ল্যামারে সীমাবদ্ধ নয়। তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি ধরা পড়ে তার মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়। তিনি জানান, তার প্রতিটি অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। প্রতি বছর নিজের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেন তাদের জন্য। স্কুলের ইউনিফর্ম, খাতা-কলম, প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে নিজের জন্মদিন কিংবা আনন্দের বিশেষ মুহূর্তগুলোও তিনি কাটান এসব শিশুদের সঙ্গে। তাদের মুখে হাসি ফোটানোকে তিনি মনে করেন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর এ কারণেই হুমায়রা কেবল একজন বিউটি কুইন নন, তিনি একজন সচেতন, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল তরুণীও।
‘মিস গ্লোবাল ২০২৫’ হুমায়রার কাছে শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি ছিল তার জন্য একটি শক্তিশালী লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে পুঁজি করে তিনি এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরও বড় মঞ্চের জন্য। তার পরবর্তী স্বপ্ন ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ কিংবা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। শুধু তাই নয়, সৌন্দর্যের এই শক্তিকে তিনি ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চান নারী ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি কাজ করতে চান UNESCO-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও।
স্বপ্ন দেখার সাহস, প্রতিকূলতাকে জয় করার শক্তি, গ্ল্যামারের ভেতরে শিকড়কে ধরে রাখার সৌন্দর্য এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা — সব মিলিয়ে হুমায়রার ‘মিস গ্লোবাল ২০২৫’ যাত্রা সত্যিই অনন্য, অনুপ্রেরণাদায়ী এবং গর্বের। বিশ্বমঞ্চে তার এই দীপ্তিময় উপস্থিতি যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় —
বাংলাদেশ শুধু অংশ নিতে জানে না, বাংলাদেশ উজ্জ্বল হতেও জানে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© 2025, All rights reserved.
Design by Raytahost