
বিনোদন প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রেক্ষাগৃহে যে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি থামেনি। মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শক টানছে ভালোভাবেই। তবে ঠিক এই সময়েই সন্ধ্যার পর মাল্টিপ্লেক্সে শো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন উৎকণ্ঠা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাতের আগেই শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর, সেসব স্থাপনার ভেতরে থাকা সিনেমা হলগুলোর কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়ে। শুরুতে কিছু মাল্টিপ্লেক্স রাতের শো স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও, পরে প্রায় সব বড় হলই একই পথে হাঁটে। এতে ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর ব্যবসা বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি আলোচিত ঈদ সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজক একসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক সিনেমা ব্যবসায় সন্ধ্যা ও রাতের শো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিনের ব্যস্ততা শেষ করে দর্শকদের বড় একটি অংশ এ সময়েই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যান। ফলে সন্ধ্যার আগেই প্রদর্শনী থেমে গেলে সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর্শকশ্রেণিই বাদ পড়ে যাচ্ছে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের দাবি, সিনেমা হলকে সাধারণ দোকানপাটের মতো বিবেচনা করলে বাস্তব চিত্রটা ধরা পড়ে না। কারণ, একটি শপিংমল বন্ধ হলেও তার ভেতরে থাকা প্রেক্ষাগৃহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও আলাদা ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব। অতীতেও এমন উদাহরণ ছিল, যখন মার্কেটের মূল অংশ বন্ধ থাকলেও সিনেমা হলগুলো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চালু ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের নমনীয়তা দেখানো সম্ভব।
নির্মাতা ও প্রযোজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ মৌসুমে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর পেছনে থাকে বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ। এই কয়েক দিনই একটি ছবির ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর ঠিক এই সময়েই যদি প্রতিদিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শো বাদ পড়ে, তাহলে আয়ের বড় অংশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে শুধু প্রযোজক নন, পরিবেশক, হল মালিক এবং পুরো চলচ্চিত্র অর্থনীতিই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তাদের মতে, সন্ধ্যার পরের প্রদর্শনী বন্ধ থাকলে দর্শকের আগ্রহ থাকলেও তা আয় হিসেবে পরিণত করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে পরিবারকেন্দ্রিক ঈদের ছবিগুলোর ক্ষেত্রে রাতের শোই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তাই তারা চান, সিনেমা হলকে দোকান বা বাণিজ্যিক আউটলেটের আওতা থেকে আলাদা বিবেচনা করে অন্তত শো চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে ‘রাক্ষস’ সিনেমার নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ও খোলামেলা মত দিয়েছেন। তার মতে, ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর জন্য প্রতিটি শো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরের প্রদর্শনী কমে গেলে সেটি সরাসরি ব্যবসায় বড় প্রভাব ফেলে। তিনি মনে করেন, দর্শকের উপস্থিতির দিক থেকেও এ সময়টাই সবচেয়ে কার্যকর, তাই অন্তত মাল্টিপ্লেক্সগুলো চালু রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে সরকারি নির্দেশনাও বজায় থাকে, আবার দেশের সিনেমা শিল্পও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে। কারণ, উৎসবের এই সময়টুকুই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ব্যবসার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময়গুলোর একটি।
Leave a Reply